মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে অসংক্রামক রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধে দেশব্যাপী সামাজিক সচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) সারাদেশে তিন মাসব্যাপী একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে শনিবার কক্সবাজারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশেষজ্ঞরা একথা জানান।
উক্ত সেমিনারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমিত স্বাস্থ্য বাজেট দিয়ে ভবিষ্যতে এমন অসংক্রামক রোগসমূহে আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সত্যিকার অর্থে বেশ কঠিন হয়ে দাড়াবে।
সেমিনারে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ইতিমধ্যে প্রাপ্ত বয়ষ্কদের মধ্যে অসংক্রামক রোগসমূহ বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপে আক্রান্তদের হার ও প্রকৃত কারণগুলো নিয়ে বেশকিছু বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু কিশোর ও তরুণদের মধ্যে অসংক্রামক রোগসমূহে আক্রান্তের হার ও এর প্রকৃত কারণ নিয়ে দেশব্যাপি আজ অবধি কোন বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়নি।
কক্সবাজারে স্থানীয় একটি হোটেলে শনিবার দুপুরে অনুষ্টিত সেমিনার ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন বাডাস সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ একে আজাদ খান। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক ডায়াবেটস ফেডারেশনের(আইডিএফ) নির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ আকতার হোসেন, বারডেমে কর্মরত বাংলাদেশের খ্যাতনামা ডায়াবেটিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ ফারুক পাঠান, বারডেম’র ডায়াবেটিক চিকিৎসক ডাঃ বিশ^জিৎ ভৌমিক, ডিজি, হেলথ এর লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডাঃ রোবেদ আমিন এবং অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমদ।
জাতীয় অধ্যাপক একে আজাদ খান বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ এর মতো অসংক্রামক রোগসমূহ মহামারী আকার ধারন করেছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ডায়াবেটিস ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগসমূহ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে অসংক্রামক রোগ বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতা, রক্তে চর্র্বির আধিক্যতে আক্রান্তের হার ও এর প্রকৃত কারণসমূহ খুঁজে দেখার উদ্দেশ্যে ২০২১ সালে নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর অর্থায়নে সেন্টার ফর গেøাবাল হেলথ রিসার্চ, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি তিন মাসব্যাপী একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। দেশের ৮ বিভাগের দশটি (১০) জেলায় একটি করে শহর ও একটি করে গ্রামে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষাটি করা হয়। বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যগুলো ভবিষ্যতে অসংক্রামক রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধে দেশব্যাপী সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মোট সংখ্যা ২৪৬৮ শহর ও গ্রামে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা যথাক্রমে- ১৩২০ (৫৩.৫%) ও ১১৪৮ (৪৬.৫%) পুরুষ ও নারী অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা যথাক্রমে- ১১৯৩ (৪৮.৩%) ও ১২৭৫ (৫১.৭%) ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার ছিল ৭.৪%, শহর (৮.০%), নারী (৭.৮%) এবং ৩০ ও ৩০ উর্দ্ধদের (২১.৩%) মধ্যে ভায়াবেটিস আক্রান্তের হার বেশি পাওয়া গেছে। ৬১% এর মধ্যে ডায়াবেটিস এর কোন উপসর্গ ছিল না। উচ্চ রক্তচাপ এ আক্রান্তের হার ছিল ১৩.৫%, গ্রাম (১৪.২%), পুরুষ (১৭.৬%) এবং ৩০ ও ৩০ উর্দ্ধদের (২২.৫%) মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ এ আক্রান্তের হার বেশি পাওয়া গেছে। ৬৮.১% এর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ এর কোন উপসর্গ ছিল না।
ভয়েস/ জেইউ।